কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কারাবন্দিদের সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে মূল্যায়ন করতে সরকারি পরিদর্শনে অংশ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।
“রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ”—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কারাগারের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বন্দিদের আবাসন ব্যবস্থা, খাদ্যের গুণগত মান এবং চিকিৎসা সেবার সার্বিক চিত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
কারা প্রাঙ্গণে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে কারারক্ষীদের একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদন ও ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বন্দি ব্যারাক, কারাপাকশালা এবং কারা হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। তিনি বন্দিদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের পুষ্টিমান এবং চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনানুগ ও মানবিক হওয়ার তাগিদ দেন।
একই সঙ্গে তিনি কারাবন্দিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের আইনি জটিলতা, মানবিক সমস্যা ও বিভিন্ন অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। বিধি মোতাবেক প্রতিকারযোগ্য বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনাও প্রদান করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “কারাগার যেন প্রত্যেক অপরাধীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে পরিপূর্ণ শোধনাগার হিসেবে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে কারা কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও আইনি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না।”
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. দিদারুল আলম, জেলার ফারহানা আক্তার, সহকারী সার্জন শিবু রঞ্জন সরকার, ডেপুটি জেলার সেলিনা আক্তার রেখাসহ জেলা প্রশাসন ও কারা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।